প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি | Primary Job Preparation
প্রিয় চাকরি প্রত্যাশীগণ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি সংক্রান্ত ব্লগে আপনাদের স্বাগতম। ১৯৯৩ সাল থেকে দেশজুড়ে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল সহ প্রতিটি প্রান্তে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজারের অধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফলে অনেক বড় একটি জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত হওয়ার সাথে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় লাখো চাকরি প্রার্থীর।
নিজ স্থায়ী ঠিকানায় থেকে চাকরির সুবিধা, দ্রুত পদায়ন, আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো, তুলনামূলক কম কর্মঘণ্টা ছাড়াও লিখিত পরীক্ষা না থাকায় চাকরির প্রস্তুতিতে কম সময় লাগে বিধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদটি অনেক তরুণের জন্য একটি আকর্ষণীয় চাকরি হয়ে উঠেছে। এছাড়াও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় অন্য চাকরির প্রস্তুতি এবং চাকরির পাশাপাশি বাড়তি কিছু করারও সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদের জন্য প্রতিযোগিতাও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। তাই হাজারো প্রতিযোগীর ভিড়ে নিজেকে আলাদা করতে নিতে হবে একটি গুছানো প্রস্তুতি। আজকের এই আর্টিকেলে আপনারা প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি সম্পর্কিত সকল তথ্যই পেয়ে যাবেন যা প্রস্তুতি শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার জানা জরুরি। বিশেষ করে একদম নতুন অবস্থায় যারা প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিবেন তাদের জন্য এই আর্টিকেলে রয়েছে বিশেষ গাইডলাইন।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার যোগ্যতা: (Primary Teacher Job Qualification)
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য একজন প্রার্থীর বেশ কিছু যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। যার মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স সীমা, এবং স্থায়ী ঠিকানা অন্যতম।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীকে যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ সহ (৪ স্কেলে ন্যূনতম ২.২৫ ও ৫ স্কেলে নূন্যতম ২.৮) স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি অর্জন করতে হবে।
বয়সসীমা: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদনের জন্য প্রার্থীর বয়স আবেদন শুরুর দিন হতে ২১ বছর থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য বয়স ২১ বছর থেকে ৩২ বছর বয়স পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।
স্থায়ী ঠিকানা: বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাগুলো গুচ্ছভাবে কয়েকটি ধাপে হয়ে থাকে। এই ক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপের জন্য অঞ্চল ভাগ করে দেওয়া থাকে। এবং প্রতি অঞ্চলের জন্য আলাদা শূন্য পদ সংখ্যাও নির্দিষ্ট করা থাকে। এই দিকগুলো বিবেচনা করলে আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানাও একটি যোগ্যতা হিসেবে কাজ করে।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা পদ্ধতি:
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাটি সাধারণ ২ টি ধাপে হয়ে থাকে। প্রথম ধাপে প্রার্থীদের ৭৫ থেকে ৮০ নম্বরের MCQ টাইপ লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। যেখানে ৭৫-৮০ নম্বরের জন্য সর্বমোট ৭৫-৮০ টি প্রশ্নই বরাদ্দ থাকে প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর যোগ হয় এবং ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কর্তন করা হয়। এই পরীক্ষার জন্য সর্বমোট বরাদ্দ সময় ৬০ মিনিট অর্থাৎ প্রতিটি প্রশ্নের জন্য আপনি সময় পাবেন ৪৫ সেকেন্ড।
MCQ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তীতে ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এবং মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা পরবর্তীতে মেডিকেল টেস্ট ও পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন: Primary Teacher Exam Syllabus & Mark Distribution
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে MCQ টাইপ লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় সর্বমোট ৭৫ থেকে ৮০ নম্বরের। এই ৪ টি বিষয়ের মানবন্টন হয় নিম্নরূপ –
- বাংলায় – ২০ নম্বর,
- ইংরেজিতে – ২০ নম্বর,
- গণিতে – ২০ নম্বর,
- সাধারণ জ্ঞানে – ১৫ থেকে ২০ নম্বর
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বিস্তারিত মানবন্টন
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ সিলেবাস PDF দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি:
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি (বিষয়ভিত্তিক বাংলা):
একটু গুছিয়ে প্রস্তুতি নিলেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ের জন্য বরাদ্দ ২০ নম্বরের মধ্যে সবটুকুই অর্জন করা সম্ভব। এই নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ের জন্য বরাদ্দ ২০ নম্বরের মধ্যে ব্যাকরণ অংশ থেকে ১৫-১৬ নম্বর, সাহিত্য অংশ থেকে ৪-৫ নম্বর বরাদ্দ থাকে।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বাংলা বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
বাংলা সাহিত্য (৪-৫ নম্বর)
বাংলা ব্যকরণ (১৫-১৬ নম্বর)
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বাংলা বুক লিস্ট:
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বাংলা বিষয়ে ভালো করার কার্যকরী কিছু টিপস:
১। বিসিএস এর জন্য একবার বাংলার প্রস্তুতি নেওয়া থাকলে নতুন করে আর প্রস্তুতি না নিয়ে বার বার পুরাতন বিষয়গুলো রিভিশন দিন। ২। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলার জন্য বরাদ্দ ২০ নম্বর থেকে ১৫ নম্বরই আসে বাংলা ব্যাকরণ অংশ থেকে। তাই বাংলা ব্যাকরণে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। ৩। ব্যাকরণের জন্য ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বইটি অনুসরণ করুন। সাধারণত ব্যাকরণে এর বাইরে প্রশ্ন হয় না। ৪। সাহিত্য অংশের জন্য প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের বিখ্যাত সাহিত্য ও বৈশিষ্ট্য কবি ও সাহিত্যিকদের কর্ম, সাহিত্যে অবদান রাখা পত্রিকা ও সাময়িকীগুলো সম্পর্কে ধারণা নিন। ৫। বিগত সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান থেকে বাংলা অংশের প্রশ্নগুলো সমাধানে গুরুত্ব দিন।
এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বাংলা বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে Live MCQ App এর টপিকগুরু বাটনের বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ অংশের প্রায় ৬৪ হাজার প্রশ্ন তো রয়েছেই! প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর, রেফারেন্স সহ ব্যাখ্যা ও Question Analytics আপনাকে সহযোগিতা করবে একটি স্মার্ট প্রস্তুতি নিতে।

এখানেই শেষ নয়! প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য অ্যাপের Exam Section এ থাকা শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন বাটনের অধীনে প্রাইমারি ফুল মডেল টেস্ট, প্রাইমারি ডেইলি কুইজ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি এবং প্রাইমারি জব সল্যুশন বাটন গুলো থেকে হাজারো পরীক্ষার্থীর সাথে নিয়মিত লাইভ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিন।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি (বিষয়ভিত্তিক ইংরেজি):
বাংলার মতো প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ইংরেজির বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও একটু গোছানো প্রস্তুতি নিলেই একটি ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব। ইংরেজি বিষয়ের জন্য বরাদ্দ ২০ নম্বরের মধ্যে ৮-৯ নম্বর আসে ইংরেজি গ্রামার অংশ থেকে, Vocabs অংশ থেকে আসে ১০-১১ নম্বর, এবং সাহিত্য থেকে ১-২ নম্বর থাকে।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ইংরেজি বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
English Grammar (8-9 marks)
English Vocabulary (10-11 marks)
English Literature (1-2 marks)
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় ইংরেজি বুক লিস্ট:
- Cliff’s Toefl
- Live MCQ English Wizard Grammar
- Live MCQ Vocabulary Booster PDF
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ইংরেজিতে ভালো করার জন্য কিছু কার্যকরী টিপস:
১। ইংরেজির জন্য সবকিছু না পড়ে যেটুকু পড়তে হবে শুধু সেটুকুর উপরই গুরুত্ব দিন। ২। ইংরেজি গ্রামার অংশের জন্যই অধিকাংশ নম্বর বরাদ্দ থাকে বিধায় এই অংশে বিশেষ জোর দিন। ৩। কোন একটি টপিকে কনফিউশন থাকলে সেটি দূর করার জন্য রেফারেন্স হিসেবে একটি গ্রামার বই অনুসরণ করুন। ৪। বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে বাড়তি সময় দিন। ৫। বিগত সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান থেকে ইংরেজি অংশের প্রশ্নগুলো সমাধানে গুরুত্ব দিন।
এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বাংলা বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে Live MCQ App এর টপিকগুরু বাটনের English Language ও English Literature অংশের প্রায় ৬২ হাজার প্রশ্ন তো রয়েছেই! প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর, রেফারেন্স সহ ব্যাখ্যা ও Question Analytics আপনাকে সহযোগিতা করবে একটি স্মার্ট প্রস্তুতি নিতে।

এখানেই শেষ নয়! প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য অ্যাপের Exam Section এ থাকা শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন বাটনের অধীনে প্রাইমারি ফুল মডেল টেস্ট, প্রাইমারি ডেইলি কুইজ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি এবং প্রাইমারি জব সল্যুশন বাটন গুলো থেকে হাজারো পরীক্ষার্থীর সাথে নিয়মিত লাইভ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিন।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি (বিষয়ভিত্তিক গণিত):
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় গণিত অংশের জন্য সর্বমোট ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। যার মধ্যে পাটিগণিতে ১২-১৩ নম্বর, বীজগণিতে ৩-৪ নম্বর, এবং জ্যামিতিতে ৪ নম্বর থাকে। একটু গুছিয়ে প্রস্তুতি নিলে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় গণিত অংশে ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার গণিত বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
পাটিগণিত – (১২ – ১৩ নম্বর)
বীজগণিত – (৩-৪ নম্বর)
জ্যামিতি – (৪ নম্বর)
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় গণিত বুক লিস্ট:
- ৮ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বোর্ড বই
- ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বোর্ড বই
- বাজারের যেকোনো একটি ভালো পাবলিকেশনের বই
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে গণিতে ভালো করার জন্য কিছু কার্যকরী টিপস:
- ৮ম শ্রেণি থেকে ৯ম-১০ম শ্রেণির গণিত বই টি ভালো ভাবে শেষ করুন।
- শর্টকাট পরিহার করে গণিতে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করার পিছনে মনোনিবেশ করুন। ভিত্তি মজবুত হলে কম সময়ে গণিত সমাধান করার পদ্ধতি আপনি নিজেই বের করতে পারবেন।
- প্রতিদিন নিয়মিত গণিত চর্চা করুন।
এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের গণিতের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে Live MCQ App এর টপিকগুরু বাটনের গাণিতিক যুক্তি অংশের প্রায় ৩৫ হাজার প্রশ্ন তো রয়েছেই! প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর, রেফারেন্স সহ ব্যাখ্যা ও Question Analytics আপনাকে সহযোগিতা করবে একটি স্মার্ট প্রস্তুতি নিতে।

এখানেই শেষ নয়! প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য অ্যাপের Exam Section এ থাকা শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন বাটনের অধীনে প্রাইমারি ফুল মডেল টেস্ট, প্রাইমারি ডেইলি কুইজ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি এবং প্রাইমারি জব সল্যুশন বাটন গুলো থেকে হাজারো পরীক্ষার্থীর সাথে নিয়মিত লাইভ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিন।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি (বিষয়ভিত্তিক সাধারণ জ্ঞাণ):
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞাণ অংশ থেকে সর্বমোট ২০ নম্বরের প্রশ্ন আসে। যেখানে বাংলাদেশ বিষয়াবলী থেকে ১০-১১ নম্বর, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী থেকে ৪-৫ নম্বর এবং সাধারণ বিজ্ঞান থেকে ৪-৫ নম্বর এসে থাকে। সঠিকভাবে গুছিয়ে প্রস্তুতি নিলে খুব সহজেই সাধারণ জ্ঞাণ অংশে একটি ভালো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞাণ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০ – ১১ নম্বর)
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (৪-৫ নম্বর)
সাধারণ জ্ঞান – সাধারণ বিজ্ঞান (৪-৫ নম্বর)
সাধারণ জ্ঞান – (কম্পিউটার)
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সাধারণ জ্ঞাণ বুকলিস্ট:
- যেকোন ভালো প্রকাশনীর প্রাইমারি সহায়িকা বই
- Live MCQ মাসিক সাম্প্রতিক বিষয়াবলি PDF
- Live MCQ প্রযোজিত ফ্রী Daily NewsPicker
- Live MCQ প্রযোজিত ফ্রী Weekly Bulletin
- ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বই
- ৯ম-১০ম শ্রেণির আইসিটি বই
- একাদশ – দ্বাদশ শ্রেণির আইসিটি বই
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সাধারণ জ্ঞাণে ভালো করার জন্য কিছু কার্যকরী টিপস:
- যেহেতু সাধারণ জ্ঞাণ এর জন্য বরাদ্দ ১৫-২০ নম্বরের প্রায় অর্ধেকই বাংলাদেশ বিষয়াবলি থেকে এসে থাকে তাই এই অংশে অধিক গুরুত্ব দিন।
- ১০তম -৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী অংশের প্রশ্নগুলো ভালো ভাবে পড়ুন।
- মূল পরীক্ষার আগে সর্বশেষ ৩ মাসের Live MCQ মাসিক সাম্প্রতিক বিষয়াবলিগুলো ভালোভাবে দেখুন।
- বিগত সালে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান গুলো অনুসরণ করুন
- বিগত সালে অনুষ্ঠিত হওয়া শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান অনুসরণ করুন।
এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের সাধারণ জ্ঞানের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে Live MCQ App এর টপিকগুরু বাটনের বাংলাদেশ বিষয়াবলী, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী, ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি অংশের প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার প্রশ্ন তো রয়েছেই! প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর, রেফারেন্স সহ ব্যাখ্যা ও Question Analytics আপনাকে সহযোগিতা করবে একটি স্মার্ট প্রস্তুতি নিতে।

এখানেই শেষ নয়! প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য অ্যাপের Exam Section এ থাকা শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন বাটনের অধীনে প্রাইমারি ফুল মডেল টেস্ট, প্রাইমারি ডেইলি কুইজ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি এবং প্রাইমারি জব সল্যুশন বাটন গুলো থেকে হাজারো পরীক্ষার্থীর সাথে নিয়মিত লাইভ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিন।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ MCQ পরীক্ষায় ভালো করার উপায়:
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করার জন্য গৎবাঁধা ভাবে না পড়ে এনালাইসিস করে বুঝে ও গুছিয়ে পড়তে হবে। নিচের টিপস গুলো মেনে চললে আপনার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি অনেক সহজ হবে বলে আশাকরি।
১। বিগত সালে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করুন। এই পরীক্ষায় ১৫-২০ নম্বর প্রশ্ন রিপিট হতে দেখা যায়। ২। বিগত সালে অনুষ্ঠিত হওয়া বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করুন। বিসিএস এর বিগত সালের প্রশ্ন থেকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অনেক প্রশ্ন রিপিট হতে দেখা যায়। ৩। প্রস্তুতির মান যাচাইয়ের জন্য Live MCQ অ্যাাপে নিয়মিত মডেল টেস্ট ও মক টেস্ট পরীক্ষা দিন। ১০০ মিনিটের মধ্যে মক টেস্ট পরীক্ষা শেষ করার অভ্যাস করুন করুন। ৪। ভুল করা প্রশ্নগুলো নিয়মিত চর্চা করুন। এবং ৫। ইংরেজি ও গণিত অংশে বিষদ প্রস্তুতি নিন। ৬। একটি স্মার্ট রিভিশন সার্কেল অনুসরণ করুন, পূর্বে পঠিত বিষয়গুলোকে এই সার্কেলের মাধ্যমে বার বার রিভিশন দিন। ৭। একই লক্ষ্যে অবিচল পরিশ্রমী ও সমমনা পরীক্ষার্থীদের সাথে স্টাডি গ্রুপ গঠন করে পারস্পরিক সিহযোগিতার মাধ্যমে সমন্বিত ভাবে প্রস্তুতি নিন। ৮। কার্যকরী ও কৌশলী উপায় অবলম্বন করুন। শর্টকাট পরিহার করুন। ৯। পরীক্ষার শুরুতেই বাংলা, সাধারণ জ্ঞাণ এবং ইংরেজি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর করবেন এবং সবার শেষে উত্তর করবেন গণিত। যেহেতু গণিত প্রশ্নের উত্তর করার জন্য অনেক ক্ষেত্রে ১-২ মিনিটের মতো সময় লেগে যায় তাই শুরুতেই গণিত উত্তর করতে গেলে এবং সময় দিয়েও ১-২ টা গণিত উত্তর করতে না পারলে আপনি ঘাবড়ে যেতে পারেন।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ভাইভা পরীক্ষায় ভালো করার উপায়:
১। মনে রাখবেন ভাইভাতে শুধুমাত্র আপনার পড়াশোনা বা জানা বোঝার বিষয়গুলোই দেখা হবে না, বরং এর সাথে আপনার অভিব্যাক্তি, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং উপস্থাপনা কৌশলও দেখা হবে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি এই বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিতে হবে। ২। আপনার নিজের সম্পর্কে, নিজ জেলা, বিশ্ববিদ্যালয়, অনার্সে পঠিত বিষয় ইত্যাদি সম্পর্কেও বিষদ ধারনা রাখতে হবে। ৩। কেন আপনি প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান এই সম্পর্কে একটি যৌক্তিক কারন ঠিক করে রাখতে হবে। ৪। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে চলা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পর্কে সাম্যক ধারনা রাখতে হবে। ৫। আপনাকে একইসাথে আত্মবিশ্বাসী এবং বিনয়ী হতে হবে। ভাইভা বোর্ডে এমন কোন আচরণ করা যাবে না যেটি আপনাকে ওভার কনফিডেন্ট বুঝায়। ৬। ভাইবা বোর্ডে প্রবেশের জন্য আপনার সিরিয়াল আসলে ভাইবা রুমের দরজা থেকেই অনুমতি নিয়ে রুমে ঢুকবেন, এরপর আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়ে টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আপনার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সালাম, আদাব ইত্যাদি বলবেন, অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত বসবেন না। কোন কারনে বোর্ডের সদস্যরা বসতে বলতে দেরি করলে বিনয়ের সাথে বসবার জন্য তাদের অনুমতি চাইবেন। তারা অনুমতি দিলে তারপর বসবেন। এবং পর ভাইবা বোর্ডের সকলের সাথে হাসিমুখে আই কন্ট্রাক্ট করবার চেষ্টা করবেন। ৭। ভাইভা চলাকালীন পুরোটা সময় মুখে স্মিত হাসি ধরে রাখার চেষ্টা করবেন। ৮। ভাইভা বোর্ডে ভাষার আঞ্চলিকতা পরিহার করার চেষ্টা করুন। ৯। যেকোন প্রশ্ন মন দিয়ে শুনে তারপর সামান্য সময় ভেবে পরে উত্তর দিন। প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের মাঝেই কথা বলবেন না। ১০। সব প্রশ্নের উত্তর দিতেই হবে এমন মনোভাব নিয়ে ভুল বা অনুমান নির্ভর উত্তর দিবেন না। কোন প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা না থাকলে শয়েটি বিনয়ের সাথে স্বীকার করে নিবেন। ১১। ভাইবা বোর্ডে প্রবেশের পূর্বে এবং ভাইভা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে যথাসম্ভব টেনশন ফ্রী থাকার চেষ্টা করুন। ১২। ইংরেজিতে প্রশ্ন করা হলে ইংরেজিতে উত্তর দিবেন। বাংলায় প্রশ্ন করে ইংরেজিতে উত্তর দিতে বললে সেটিই করবেন, বাংলায় উত্তর দেওয়ার অনুমতি চাইবেন না। ১৩। ভাইভা বোর্ডে একজনের প্রশ্নের উত্তর করার সময় আরেকজন কোন প্রশ্ন করলে প্রথমজনের অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় জনে প্রশ্নের উত্তর দিবেন। ১৪। কোন প্রশ্ন একবার শুনে বুঝতে না পারলে বিনীতভাবে সেটি জানাবেন। ১৫। আপনার একাডেমিক পড়াশোনার ফলাফল কোন কারনে ভালো হয়ে না থাকলে এই বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য কারণ তৈরি করে রাখবেন। ১৬। আপনার কোণ মুদ্রাদোষ থেকে থাকলে সেটি সম্পর্কে সচেতন হোন। ভাইভা বোর্ডে মুদ্রাদোষ পরিহার করার চেষ্টা করুন।
কোচিং ছাড়াই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি :
যেকোন চাকরির প্রস্তুতি নিতে প্রয়োজন হয় একটি সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সঠিক প্রস্তুতিমূলক গাইডলাইন। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম নয়। বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় Live MCQ নামের চাকরির প্রস্তুতির প্লাটফর্ম নিয়ে এসেছি আমরা, অর্জন করেছি ১২ লক্ষের অধিক অ্যাপ ব্যাবহারকারীর আস্থা।দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে কোচিং ছাড়াই প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতির সকল সুবিধা পাচ্ছেন Live MCQ অ্যাাপে। অ্যাাপের প্রিমিয়াম ও দুর্দান্ত সব ফিচার উপভোগ করতে আজই ইন্সটল করুন।

আশাকরি ব্লগ টি পড়ার পর এই গাইডলাইন গুলো অনুসরণ করলে আপনার প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির পথ অনেকটাই সুগম হয়ে যাবে। Live MCQ অ্যাপে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের একটি স্মার্ট প্রস্তুতি নিয়ে আপনার লক্ষ্য অর্জন করুন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সহ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি সংক্রান্ত যেকোন প্রয়োজনে নিচের কমেন্ট বক্সে আপনার প্রশ্নটি জানান অথবা Whatsapp Icon টিতে ক্লিক করে আমাদের ম্যাসেজ করুন।
শুভকামনায় – Live MCQ
মন্তব্য
মন্তব্য লোড হচ্ছে…
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এক ক্লিকে Google বা Facebook দিয়ে সাইন ইন করুন — মন্তব্য, পার্সোনাল রিপোর্ট ও সব ফিচার আনলক হবে।